বিজ্ঞাপন

দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, নেত্রকোনায় ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী দর্শন ও সাহিত্যকর্ম তৃণমূল থেকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। এর অংশ হিসেবে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহী কবিই নন; তিনি সাম্য, তারুণ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির প্রথম আগমনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানটিকে পূর্ণাঙ্গ ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নজরুলের সাহিত্যকর্ম কেবল বদ্ধ ঘরে সীমাবদ্ধ না রেখে, ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নেত্রকোনার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও লোকজ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। উকিল মুন্সী, জালাল খাঁ ও বারী সিদ্দিকীর মতো অসংখ্য গুণী শিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘কালচারাল একাডেমি’ স্থাপনের জোর দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান সংসদ সদস্যের দাবির সাথে একমত পোষণ করেন। তিনি জানান, নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র কালচারাল একাডেমি স্থাপনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত নেত্রকোনায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পাবলিক হলে বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৩ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের জন্য তিনটি ভিন্ন গ্রুপে রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা ৪ জুলাই (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৪টায় সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান নূরু, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন : তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন