বিজ্ঞাপন

মাদক কারবারি সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু: পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার মাদকপ্রবণ এলাকা আকন্দবাড়িয়াকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয়ে  মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় দর্শনা  আকুন্দবারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে দর্শনা থানা পুলিশ।

স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান।

পুলিশ সুপার বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। আকন্দবাড়িয়াকে যদি মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তাদের একটাই পরিচয় তারা সমাজের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিন, পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটে, সেখানে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ে। এমনকি অনেক পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিয়েও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, আলহাজ্ব মশিউর রহমান, দর্শনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন লিটন,
সদর উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আমিনুল মাস্টার, বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মোশাররফ হোসেন,
থানা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মুন্না।

বক্তারা বলেন, মাদক আজ আকন্দবারিয়ার সবচেয়ে বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। মাদক ব্যবসার বদনামের কারণে এলাকার বহু শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় ছেলে-মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে কিংবা ভালো পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছে না। একটি গ্রামের পরিচয় যখন ‘মাদকপ্রবণ এলাকা’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজকে বহন করতে হয়।

তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ মাদকমুক্ত আকুন্দুয়ারিয়া গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন