বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াই শুরু হওয়ার পরই আলোচনায় উঠে এসেছে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির শটে করা গোল। প্রশ্ন উঠেছে—এখন পর্যন্ত কোন গোলটি সবচেয়ে জোরে মারা শট থেকে এসেছে?
এই তথ্যের উত্তর দিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’-তে থাকা ইনারশিয়াল মেজরমেন্ট ইউনিট (IMU) সেন্সরের মাধ্যমে পুরো ডেটা ট্র্যাক করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের ভেতরে স্থাপিত ১৬টি বিশেষ ক্যামেরার সঙ্গে এই সেন্সর সমন্বিতভাবে কাজ করে। বল ও খেলোয়াড়দের গতিবিধি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ বার বিশ্লেষণ করে ২৯ ধরনের ডেটা সংগ্রহ করা হয়। প্রযুক্তিগতভাবে বলের ভেতরের সেন্সর এমনভাবে তৈরি, যাতে এর ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে।
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুতগতির শটে করা গোলটি এসেছে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের কাছ থেকে। ইরাকের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার করা গোলের সময় বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩১.৯৪ কিলোমিটার।
এই শটের মাধ্যমে তিনি ছাপিয়ে যান সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বিকে। কানাডার বিপক্ষে তার শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮.৭৩ কিলোমিটার—যা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে।
তৃতীয় অবস্থানে আছেন নরওয়ের থেলো আসগার্ড। ফ্রান্সের বিপক্ষে তার গোলের সময় বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫.৯৫ কিলোমিটার।
শীর্ষ দশের তালিকায় আরও আছেন কেপ ভার্দের কেভিন পিনা। উরুগুয়ের বিপক্ষে তার ৩১ গজের বেশি দূর থেকে নেওয়া শটের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫.২২ কিলোমিটার, যা তার দেশের ইতিহাসে বিশ্বকাপে প্রথম গোলও।
শেষ ষোলোর আগে তালিকার শীর্ষ দশের মধ্যে নয়টি গোলই ছিল গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্ব থেকে জায়গা পাওয়া একমাত্র গোলটি করেন মিসরের মোহামেদ সাবের, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে।
উল্লেখ্য, FIFA ও অ্যাডিডাস প্রথমবার নয়, এর আগেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে বল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ট্র্যাক করেছে। Adidas এবারও সেই প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অব্যাহত রেখেছে।


