বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা ব্যবহারে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর তা নামিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু সোমবার রাতেও উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই জাতীয় পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার পাথরঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি আল-আমিন ফোরকান উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখে ভিডিও ধারণ করেন এবং সেটি আল-আমিন নামেন নিজ ফেসবুক পেজে পোষ্ট করেন। ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিক আল আমিন ফোরকান বাদী হয়ে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের নৈশপ্রহরী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাথরঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে আল আমিন ফোরকান উল্লেখ করেন, অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তির কণ্ঠস্বর উপজেলা পরিষদের নৈশপ্রহরী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তার সন্দেহ হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সাংবাদিক আল আমিন ফোরকান বলেন, “হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, “সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বরগুনা জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি, সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল করিম বলেন, “একজন গণমাধ্যমকর্মী অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরবেন—এটাই তার পেশাগত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। জাতীয় পতাকার অবমাননার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাংবাদিককে হুমকিদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের পাথরঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অথবা তার সহযোগীরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম বলেন, “সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একজন গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পড়ুন : সাভারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে সরকার
সা/


