বিজ্ঞাপন

মমতার মেজাজ বিগড়ে গেল, নিজ কর্মীকেই থাপ্পড়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবারও নিজের পরিচিত সেই রাজপথের লড়াকু রূপে দেখা গেল। শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীকে সজোরে থাপ্পড় মেরে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। মিছিলের গতি রোধ করতে মানবঢাল তৈরি করেন বিজেপির কর্মীরা। তারা ‘চোর, চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। মমতার অনুগত তৃণমূলের কিছু কর্মীর ওপর ডিমও ছুড়ে মারা হয়।

তৃণমূলের এই মিছিল শেষপর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে সেখানে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। ভিড় সামলাতে মমতা নিজেই এগিয়ে আসেন এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির কারণে নিজ দলেরই এক কর্মীকে থাপ্পড় মারেন। এ ছাড়া তিনি উপস্থিত অন্য কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

নারীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় তৃণমূল ‘অপরাধীদের আড়াল এবং ভুক্তভোগীদের হেনস্তা করছে’ অভিযোগ তুলে দলটির এই মিছিলে প্রতিবাদ জানান বিজেপি কর্মীরা। তারা বলছেন, এই প্রতিবাদ মিছিল করার নৈতিক কোনও অধিকার তৃণমূলের নেই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত তাণ্ডব’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে ‘নীরব দর্শক’ হিসেবে ভূমিকা পালনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আদালতের অনুমতি নিয়েই আমরা এই মিছিল করছিলাম। তা সত্ত্বেও তারা আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের অনেক কর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন এবং তাদের উদ্ধার করতেই আমাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। সকালে তারা আমার বাড়ির কাছে মোটরবাইক মিছিল করে আমাকে হুমকি দিয়েছে। পুরো মিছিলের রাস্তায় তারা ডিজে বাজিয়েছে এবং আমাদের হাতের মাইকও কেড়ে নিয়েছে, অথচ এগুলো ব্যবহারের জন্য আদালতের অনুমতি ছিল।’’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, পুলিশ এখন বিজেপির ক্যাডারের মতো আচরণ করছে।’’

তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, যিনি রাজপথে আন্দোলন করতে ভালোবাসেন। আমরা তাকে বাধা দিইনি। কিন্তু ১৫ বছর আগে মানুষ যে ভরসা রেখে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি। রাজ্যের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনও পরিবর্তন তারা করতে দেয়নি।’’

কলকাতা পুলিশ প্রথমে এই মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে উচ্চ আদালত পুলিশের সেই আদেশ বাতিল করেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মিছিলের পূর্বনির্ধারিত রুট কিছুটা পরিবর্তন করে অনুমতি দেন।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন