নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পূর্ব চিকনমাটি এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে চুরির উপদ্রব। সর্বশেষ গত রাতে ওই এলাকার পণ্ডিত পাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের পুত্র মশিয়ার রহমানের গোয়ালঘর থেকে এক রাতেই সাত-সাতটি মূল্যবান গরু চুরি করে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলোকে গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে তারা ঘুমাতে যান। সারারাত প্রচণ্ড বৃষ্টি এবং আকাশের গর্জন থাকায় বাইরের কোনো শব্দ টের পাওয়া যায়নি। চোরচক্রটি প্রকৃতির এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়। তারা গোয়ালঘরের বেড়া কেটে একে একে ৭টি গরু বের করে নিয়ে যায় এবং কোনো পিকআপ বা ট্রাকে করে পালিয়ে যায়। সকালে গোয়ালঘর সম্পূর্ণ খালি দেখে স্তব্ধ হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমারে ইদানীং চুরির ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। গত দুইদিন আগে পার্শ্ববর্তী সোনারায় এলাকা থেকে এবং তার কিছুদিন আগে আন্ধারুমোড় এলাকা থেকেও একইভাবে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—শুধু গরুই নয়, পুরো এলাকায় এখন চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন বাড়ি থেকে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্যান, টিউবওয়েল, মসজিদের মাইক, এমনকি গাছের কলা পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ খামারি, কৃষক ও গৃহস্থদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ডোমার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হারিয়ে যাওয়া গবাদিপশু দ্রুত উদ্ধারসহ এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমাতে রাতকালীন পুলিশি টহল জোরদার এবং চোরচক্রকে দমনে ডোমার থানা পুলিশের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পড়ুন:মেহেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
ইমি/


