যুক্তরাষ্ট্র যদি ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, সব ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লক্ষবস্তুগুলোতে পাল্টা হামলার পর এই হুমকি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র যদি ফের ইরানেকে লক্ষ্য করে এমন নির্লজ্জ হামলা করে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যত সেনাঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে— সবগুলোকে আইআরজিসি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।”
গতকাল দুই প্রতিবেশী দেশ বাহরাইন এবং কুয়েতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৫টি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে এ সম্পর্কে আইআরজিসি বলেছে, “ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতাপূর্ণ আগ্রাসনের জবাব দিতে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।”
ইসলামাবাদ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে গত শনিবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আইআরজিসি। সেই হামলার জবাব দিতে গতকাল মঙ্গলবার ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।
উভয়পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার পর আজ বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ‘অসুস্থ’, ‘নিকৃষ্ট’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ মুখপাত্র ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাষ্ট্রের।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

