বিজ্ঞাপন

জবি প্রবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সহপাঠীদের বিক্ষোভ, বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল ম্যাচ দেখা কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে আ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় আহত এআইএস ব‌িভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সাইফুল্লাহর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর ওপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল খেলা চলাকালে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে উচ্ছৃঙ্খল কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে প্রক্টর মহোদয়ের সামনে প্রকাশ্যে ঐ শিক্ষার্থীদের ও তার বিভাগকে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া কিন্তু সেই প্রশাসনের সামনে যদি শিক্ষার্থীদেরকে হামলা ও হুমকি দেওয়া হয় তাহলে এই ব্যর্থতার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। পরবর্তীতে জিমনেসিয়ামের বাইরে এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর ওপর অতর্কিতভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি দিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিযুক্তরা হলেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফিজ, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, সাজ্জাদ, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাফি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নাহিন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুজয়, এজাজ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী গোবিন্দ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার স্থান। এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তাই আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

এ বিষয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মোঃ ইয়ারুল কবীর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিবেন । তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো ।

পড়ুন:মাদকের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’: দুর্গাপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন