জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনভিত্তিক বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) ও আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নিস্তার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডা. জাহেদ উর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “মননে জুলাই আমাদের সবাইকে ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন একদিনে আসেনি, তেমনি জুলাইও হঠাৎ করে আসেনি। দীর্ঘ আন্দোলন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জুলাই এসেছে।” তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। খুনিদের বিচার একদিন এ দেশের মাটিতেই হবে।”
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “জুলাই শুধু একটি মাস নয়, এটি হাজারো পরিবারের ত্যাগ, বেদনা ও স্বপ্নের প্রতীক। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করে জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।” তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “মননে জুলাই আমাদের ধারণ করতে হবে। জুলাই শিখিয়েছে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। এটি কোনো ব্যক্তি বা একটি দলের অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।”
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রেখেছি এবং সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। জুলাইকে ধারণ করে ভবিষ্যতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
এছাড়াও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ছাত্র হল-১-এর প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, জুলাই যোদ্ধা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : ধামরাইয়ে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪


