বিজ্ঞাপন

আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। এর আগে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে কয়েক দিন ধরে চলা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন। ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা শেষে ইতোমধ্যেই তার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই বলছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে তার বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। বৃহস্পতিবার তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার (আ.) মাজারে দাফন করা হবে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, নাজাফে বিশাল শোকযাত্রার পর বুধবার (৮ জুলাই) কারবালার রাস্তায় লাখো মানুষ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আল-শাবির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু কারবালাতেই ৪০ লাখের বেশি মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকতা শুরুর অনেক আগেই শহরের রাস্তাঘাট মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

এর আগে নাজাফে অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ অংশ নেন। প্রথম শিয়া ইমাম হজরত আলীর (আ.) মাজারসংলগ্ন সড়ক ও প্রাঙ্গণ মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার পর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ কারবালায় নেয়া হয়। সেখানে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই হজরত আব্বাসের (আ.) মাজারে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নাজাফে এই শোকযাত্রাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও অনেক মানুষ রাতভর সফর করে সেখানে পৌঁছান। খামেনির সঙ্গে নিহত তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহও বুধবার বিকেলে নাজাফ থেকে বিখ্যাত আরবাইন সড়ক দিয়ে কারবালায় নেয়া হয়।

বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে ইরাক সরকার এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল।

প্রেস টিভি বলছে, সপ্তম শতকে ইমাম হুসাইনের (আ.) শাহাদাত শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর এ উপলক্ষে লাখো মানুষ কারবালা ও নাজাফ সফর করেন। কর্তৃপক্ষের মতে, খামেনির মরদেহ এই দুই পবিত্র শহরে নেয়ায় এবারের অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরাকি কর্মকর্তারা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা এই বিপুল জনসমাগমকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্য ও প্রতিবাদের বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মূলত শিয়া-অধ্যুষিত ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই দেশ দুটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্ক বৈরী ছিল, তবে ২০০৩ সালের পর থেকে তারা আবারও ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে।

ইরাকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অষ্টম শিয়া ইমাম ইমাম রেজার (আ.) মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

পড়ুন : সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে কড়াকড়ি

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন