চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন । বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পীকার এম হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। আইনি জঠিলতার কারণে নির্বাচনের প্রায় ৫ মাস পর তিনি শপথ নিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে অন্যানোদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রী পরিষদের আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
একইদিন বিকেলে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের নামে গেজেট প্রকাশ করে।
এর আগে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
মামলার নথি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মো. নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সরোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন এবং এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন মো. নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করলেও সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখেন। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী হন সরোয়ার আলমগীর। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
সর্বশেষ মো. নুরুল আমিনের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টকে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দেন। এর ফলে সব আইনগত জটিলতার অবসান হলো।
এমপি সরোয়ার আলমগীর বলেন, ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে, সত্যেরই বিজয় হয়েছে। জামায়াত শিবির গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একের পর এক মামলা করে আমাকে হয়রানি করেছে। মাসের পর মাস আমাকে আদালতে ব্যস্ত রেখেছে কিন্তু তারা সফল হয়নি। তাদের ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে।
তিনি বলেন -এ বিজয় আমার একার নয়, এ বিজয় ফটিকছড়ির আপামর জনতার। তাদের কাছে আমি ঋণি।
তিনি বলেন, যারা সব সময় পাশে থেকেছেন, আপনাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। আর যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের প্রতিও কোনো বিদ্বেষ নেই—রইল ভালোবাসাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই পারে সব শত্রুতা ও বিরোধিতাকে জয় করতে।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। তার কথার সুর ধরে আমিও তাই বলি। এরপরেই রয়েছে ফটিকছড়ি। ফটিকছড়িকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলা হবে। আমার সব কাজ হবে ফটিকছড়ির মানুষের কল্যাণে। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এদিকে আদালতের রায়ে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হওয়ায় ফটিকছড়িতে তাৎক্ষণিক শুকরানা দোয়া মাহফিল ও আনন্দ মিছিল করেছে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি, ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপি, নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ফটিকছড়ি সদরে শুকরানা দোয়া মাহফিল ও আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, আবুল কালাম আজাদ, মুনসুর আলম চৌধুরী, হাফেজ জয়নাল আবেদীন, নাজিম উদ্দীন বাচ্চু, আবু আজম তালুকদার, ওসমান হোসেন চৌধুরী, ডা. নাজিম উদ্দীন খান, এয়াকুব শহিদ, নাজমুল হোসেন লিটন, এস এম মুনসুর, মোজাম্মেল হক বাবু, কাজী ইসমাইল, মো. হানজালা, দৌলত মিয়া, শাহরিয়া চৌধুরী, হাসানুল কবির, আহমদ রশিদ চৌধুরী, নুরুল আলম, আবু সালেহ, বেলাল বিন নুর, মোশারাফুল আনোয়ার চৌধুরী মশু, মো. সাইফুদ্দীন, এমদাদুল ইসলাম মুন্না, সাইফুল হায়দার রাসেল, মহিন উদ্দিন মেসি, মো. এরশাদসহ আরো অনেকেই। এছাড়া সংসদীয় এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতা-কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ শুকরানা দোয়া মাহফিল ও আনন্দ মিছিল এবং পথচারীদের মিষ্টিমুখ করা হয়।


