মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি ভাড়া বাসায় সংঘটিত প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার চুরির ঘটনায় ওই ভবনের দারোয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ জুলাই) পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদেমনসুর এলাকার হেলাল মঞ্জিল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হেলাল মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া হাবিবুর রহমান লিটন ও তার স্ত্রী ২ জুলাই উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারে নিজ গ্রামের বাড়িতে যান। ৫ জুলাই বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান, ঘরের মালামাল তছনছ করা হয়েছে এবং আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। পরে তারা কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই জুনেদ আহমদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে বাসার ফ্রিজের পাশে জুন মাসের ভাড়ার একটি রসিদ পাওয়া যায়। ভাড়াটিয়ারা জানান, তারা ওই রসিদটি পাননি। পরে ভবনের ম্যানেজার আরব আলীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তিনি রসিদটি দারোয়ান মো. মিলন আহমদের স্ত্রীর কাছে ভাড়াটিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন।
এই সূত্র ধরে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে একাধিক চাবি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি চাবি দিয়ে ভুক্তভোগীর বাসার তালা খোলা যায়। ওই চাবির উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং জিজ্ঞাসাবাদে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. মিলন আহমদ উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত ফারজান আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে হেলাল মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

