জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার বাটাজোড় আলীম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের ইনডেক্স নম্বর বাতিল, সরকারি কোষাগারে উত্তোলিত অর্থ ফেরত জমা এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে গত ৩০ জুন ২০২৬ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাটাজোড় আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব।
অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন—মাদ্রাসার এবতেদায়ি প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান এবং এবতেদায়ি শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সরবরাহ করা তথ্য যাচাই শেষে দুই শিক্ষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী গঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সিদ্ধান্তে তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল এবং ইনডেক্স নম্বর কর্তন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের নামে সরকারি তহবিল থেকে উত্তোলিত বেতন-ভাতাসহ সব অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগারে ফেরত জমা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ গৃহীত আইনগত পদক্ষেপের তথ্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাটাজোড় আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নাজমুস সাকিব বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর নিবন্ধন ও সুপারিশ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে জাল নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।
পড়ুন : ৫টি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে: বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র
সা/


