চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে পৃথক ঘটনায় এক কিশোরীসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার সরল ও বাহারছড়া ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। একদিনে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় মোছাম্মৎ তাহিন নুর (১২)। সে পশ্চিম জালিয়াঘাটা গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে।
স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে না পারলে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে তাহিন নুরের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করে।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইলশা এলাকায় বাড়ির সামনে ছড়ার পানিতে ডুবে মারা যায় মো. আশিক (১১)। সে প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, বাড়ির সামনের বশির উল্লাহ মিয়াজী বাজার সড়কসংলগ্ন ছড়ার পানিতে পড়ে যায় আশিক। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোশাররফ আলী মিয়ার বাজার উপকূলীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিক সাঁতার জানত না।
এদিকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম রত্নপুর গ্রামে বন্যার পানিতে তলিয়ে মো. মিরাজ (৬) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। তলিয়ে যাওয়া সড়ক, খাল ও ছড়াগুলোতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একই দিনে বন্যার পানিতে ডুবে তিন শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বন্যাকবলিত এলাকায় শিশুদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখার এবং অপ্রয়োজনে তাদের পানির কাছে যেতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

