রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ভাই মো. চান মিয়া জানান, প্রায় আট মাস আগে মারিয়ার বিয়ে হয়। স্বামী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দক্ষিণ গোরানে আলিয়া মাদরাসার পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরিবারের সদস্যরা মারিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে সাইফুলকে ফোন করলে তিনি বাসায় গিয়ে দেখে আসতে বলেন। এরপর স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরসংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় দাগও দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।
মারিয়ার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার নয়নাবাদ পোস্টের হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। তিনি খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন মারিয়া। তার স্বামী সাইফুল ইসলাম ফুডপান্ডায় চাকরি করেন। স্বজনদের অভিযোগ, সাইফুলই মারিয়াকে হত্যা করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় দক্ষিণ গোড়ানের একটি বাসা থেকে গলায় পাটের সুতলি প্যাঁচানো অবস্থায় মারিয়াকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের ভাই হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নেমে স্বামীকে গ্রেপ্তার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, পারিবারিক ও সাংসারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মারিয়া প্রায় এক বছর আগে সাইফুলকে বিয়ে করেন। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং টিউশনি করে পরিবারের ব্যয়ে সহায়তা করতেন। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
পড়ুন: সরকারি পর্যায়ে ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
আর/


