বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অপসারণ হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বর্জ্য, লাগানো হবে নিমগাছ

উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা না থাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে স্তূপকৃত বর্জ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশে অবশেষে এসব বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকার সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও জানান, শুধু আপাতত বর্জ্য অপসারণ নয়, বরং সড়কের পাশের এসব স্থানে ভবিষ্যতে কেউ যেন বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ফেন্সিং করে সেখানে নিমগাছের চারাও রোপণ করা হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকসহ স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মূলত আমিনবাজারের পর থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত এই জায়গাটি যে ময়লার ভাগাড়, আপনারা দীর্ঘদিন ধরে তা দেখছেন। এই জায়গাটি আসলে কে পরিষ্কার করবে, তা নিয়ে অভিভাবকহীন অবস্থা ছিল। আসলে এটি উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্যেও পড়ে না, সাভার পৌরসভার মধ্যেও পড়ে না। ফলে যে যার ইচ্ছামতো এখানে ময়লা ফেলে দিয়ে চলে যেত। এটি প্রতিরোধও কেউ করত না এবং পরিষ্কারও কেউ করত না।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি প্রথমে আমার নজরে আসার পাশাপাশি আপনারা জানেন, আজ থেকে চার দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক দিয়ে সিঙ্গাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তখন তাঁর দৃষ্টিতে এটি আসে। এরপর তিনি আমাকে নির্দেশনা দেওয়ার পর আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলি এবং পরে আমরা একটি সভা করি। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার রাস্তার ময়লাগুলো আমরা পরিষ্কার করব। ডিসি সাহেব ইতোমধ্যে বলেছেন, ১৫ ফুট বালু দিয়ে আমরা নেটিং করে ব্যারিকেড তৈরি করব এবং নিমগাছের চারা রোপণ করব।”

এ সময় সাভার পৌরসভার জন্য নির্দিষ্ট একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে সবাইকে সেখানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাধ্যমে এই এলাকার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন, আমিনবাজার ইউনিয়ন এবং অন্যান্য ইউনিয়নের যাঁরা এখানে অযাচিতভাবে ময়লা এনে ফেলছেন, তাঁদের অনুরোধ করব—সাভার পৌরসভার পক্ষ থেকে রাস্তার ঠিক উল্টো দিকে ময়লা ফেলার জন্য একটি ভাগাড় বা ল্যান্ডফিল নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ডিসি সাহেব বলেছেন, সবাই ময়লাগুলো নিয়ে এসে সেখানে ফেলবেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো দেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগে সবাই সহযোগিতা করুন। আমরা ‘ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ’ করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, সেখানে আগের সরকারের মতো বলব না যে বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানাব, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানাব। এটি বানাতে পারব না। তবে বাংলাদেশকে একটি বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করার প্রয়োজন, আমরা করব।”

এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালে প্রতিবছরই এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

তিনি বলেন, “বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো আমরা সংস্কার করব। জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো পরিষ্কার রাখার বিষয়ে কাজ করছি। প্রকৌশল বিভাগ ও প্রশাসন যৌথভাবে প্রায় তিন মাস আগে থেকে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পড়ুন:বিয়ের ৮ মাসেই থেমে গেল সানজিদার স্বপ্ন, হত্যার পর সাজানো হয় আত্মহত্যার নাটক

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন