বিজ্ঞাপন

কাতার আমিরের পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকাল

কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পিতা, কাতারের জাতির পিতা, সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের রূপকার শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে কাতারের আমিরি দিওয়ান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এক শোকবার্তায় আমিরি দিওয়ান পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেছে, “হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের কাছে ফিরে এসো, সন্তুষ্ট ও প্রীতিকর হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা আল-ফজর: ২৭-৩০)।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, আল্লাহর ইচ্ছা ও বিধানের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে কাতার জাতি তাদের এক মহান নেতা, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং আধুনিক কাতারের স্থপতিকে হারানোর গভীর বেদনা অনুভব করছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে কাতার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি, কূটনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করে এবং বিশ্বমঞ্চে একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। তাঁর শাসনামলেই কাতার আধুনিক উন্নয়নের নতুন যুগে প্রবেশ করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করে।

তিনি শুধু কাতারের উন্নয়নেই নয়, আরব ও ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক, উন্নয়নমূলক ও কূটনৈতিক উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের কারণে তিনি কাতারের জনগণের কাছে ‘ফাদার আমির’ ও ‘জাতির পিতা’ হিসেবে সম্মানিত হয়ে আছেন।

আমিরি দিওয়ান মরহুমের জন্য মহান আল্লাহর কাছে রহমত ও মাগফিরাত কামনা করেছে এবং প্রার্থনা করেছে, আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর সুবিশাল জান্নাতে নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও নেককারদের সঙ্গী হিসেবে স্থান দান করেন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণকে ধৈর্য ও সান্ত্বনা দানের জন্য দোয়া করা হয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকালে কাতারসহ সমগ্র আরব ও ইসলামী বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক, রাষ্ট্রপ্রধান এবং সাধারণ মানুষ তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

কাতার আজ হারাল এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ককে, যার নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

পড়ুন: বান্দরবানে কমেছে বৃষ্টি, নামছে পানি; কাটেনি দুর্ভোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন