টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর শনিবার (১২ জুলাই) বৃষ্টিপাত কিছুটা কমেছে। এতে বান্দরবানে বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত রয়েছে।
নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক বাড়িঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর এখনো পানি থাকায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাঙামাটি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পানি থাকায় স্থানীয় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবার সংকটও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। টানা বর্ষণে জেলায় পাহাড় ধসে পাঁচজন এবং পানিতে ভেসে এক শিশুসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
পড়ুন: সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
আর/


