প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ছেলের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বাবার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের রানিয়াদি গ্রামে ঘটেছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রানিয়াদি গ্রামের মো. কুব্বতের ছেলে রনি একই গ্রামের মো. ফজলুল হোসেনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার মিম পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে গত ৪ জুলাই মেয়ের বাবা হরিরামপুর থানায় রনিসহ তার পরিবারের তিন সদস্যর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ছেলের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ছেলের বাড়ির একটি দোচালা ঘরে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ঘরটির বিভিন্ন মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রনির চাচি মাজেদা বেগম বলেন, ‘সেদিন রাতে পোড়া গন্ধে আমার ঘুম ভেঙে যায়। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। প্রথমে আমার বড় ভাতিজাকে ফোন করি, কিন্তু সে ফোন ধরেনি। পরে আমি বাইরে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকলে সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।’
স্থানীয় জালাল মোল্লা বলেন, ‘এতোদিন ধরে আমরা এলাকায় থাকি এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। রনি মিমকে পালিয়ে বিয়ে করার পরই এমন ঘটনা হয়েছে। সেদিন যেভাবে আগুন লেগেছিল যদি বিদ্যুত থাকতো তাহলে অনেক বাড়িঘর পুড়ে যেত।
রনির চাচা মো. ওমর বলেন, ‘আমি ঢাকায় কাজ করি। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টার দিকে বাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় যে বাড়িতে আগুন লেগেছে। খবর শোনার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। আমাদের বাড়িতে ছোট ছোট শিশু রয়েছে। পরদিন বাড়িতে এসে হরিরামপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ আমাকে বলে, ‘মেয়েটিকে দুই দিন আগে ফিরিয়ে দিলেই তো মামলা হতো না।’
আমার ভাতিজা বিয়ে করেছে, এতে আমাদের পরিবারের কী অপরাধ? এখন আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নেই। আমরা সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানাই।
এস আই এমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা নিয়ে ওই পরিবারের লোক এসেছিলেন। তবে তারা কোন অভিযোগ করতে আসেনি। এসেছিল ঘটনার বিষয়টি জানাতে। কিভাবে আগুন লাগলো সে বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা জানি না। আমি বলেছিলাম আপনারা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেন। এখন পর্যন্ত তারা কোন অভিযোগ দেয়নি।
হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলাটাকে হালকা করার জন্য ছেলের বাড়ির লোকেরাই এ কাজ করেছে এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে। আর তাদেরকে তো থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আর অভিযোগ করেননি। তারা অভিযোগ না করলেও এ ঘটনায় আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছে এবং জিডিতে নোট করা হয়েছে।
পড়ুন:হামে মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ইমি/


