কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করতে নতুন একটি প্রযুক্তি চালু করেছে মেটা। তবে ছবিতে সামান্য সম্পাদনা বা ক্রপ (কেটে ছোট করা) করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি আর শনাক্ত করতে পারছে না এই ব্যবস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণে মেটার ‘মিউজ ইমেজ’ প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ৪০টি ছবি পরীক্ষা করা হয়। মূল অবস্থায় থাকা সব ছবিই সফলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় নতুন প্রযুক্তি। কিন্তু একই ছবিগুলো আকারে ছোট করে কেটে দেওয়ার পর ৫৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো আর এআই-নির্মিত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এতে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মেটা জানিয়েছে, মিউজ ইমেজ দিয়ে তৈরি প্রতিটি ছবিতে ‘কনটেন্ট সিল’ নামে একটি অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন যুক্ত থাকে। এই চিহ্নের মাধ্যমে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার কথা। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ সম্পাদনার পরও এই চিহ্ন থাকার কথা হলেও ছবি অতিরিক্ত কেটে ফেলা বা পরিবর্তন করলে সেটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ ধরনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আগে থেকেই স্বীকার করেছে গুগল ও ওপেনএআইও। প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, ছবি সম্পাদনা, সংকোচন বা আকার পরিবর্তনের ফলে তাদের এআই শনাক্তকারী ব্যবস্থাও সব সময় নির্ভুল ফল দিতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক বা চিহ্নভিত্তিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভুয়া ছবি শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি আরও উন্নত করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিওয়েই লিউ বলেন, ছবি ক্রপ, সংকোচন বা সম্পাদনা করা হলে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সারা ব্যারিংটন মনে করেন, শতভাগ নির্ভুল না হলেও প্রযুক্তিটি ভুয়া এআই ছবি শনাক্তে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুয়া এআই-নির্মিত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে আরও নির্ভুল ও শক্তিশালী শনাক্তকারী প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
পড়ুন:টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈরে জনজীবন বিপর্যস্ত, মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতি
ইমি/


