বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস

শেষ হতে চলেছে আষাঢ়ের দিনলিপি। আর একদিন পরই শুরু হবে শ্রাবণ। বর্ষাবাহী মৌসুমি বায়ু সারা দেশে সক্রিয়ভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশজুড়ে চলছে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ। রাজধানী ঢাকায় গতকাল ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও বৃষ্টির আবহ বিরাজ করেছে। অলিগলিতে এখনো পানি জমে আছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার। দেশের বহু জেলায় ভারী বৃষ্টির দাপট থামেনি। চট্টগ্রাম শহরের আমবাগান এলাকায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাতের প্রকোপ কিছুটা কমে এলেও ১৬ ও ১৭ জুলাই থেকে এর তীব্রতা আবার বাড়তে পারে। আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রকোপ কিছুটা কমে আসবে। এ সময় সারা দেশের ৭৬ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দিনের তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময় দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার সামান্য ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ, তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া এবং মুহুরি নদীর হরিপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু বর্তমানে আরও সক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ কারণে নতুন করে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, ভারতের ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের রাখাইন পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ওরোগ্রাফিক প্রভাবে এসব এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানান, মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা এ বর্ষণের পেছনে রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিক সক্রিয়তা, বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তিত গতিপথ এবং এল নিনোর প্রভাব। গতকাল পাউবোর নিয়মিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ৯ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোথাও কোথাও নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তবে পার্বত্য অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

পড়ুন: সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন