অলৌকিকভাবে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মায়ের পেট ফেটে বেঁচে যাওয়া ফাতেমার বাবা মা বোনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ও ফাতেমার চতুর্থ জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ফাতেমার বাড়ি উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়নি গ্রামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মহিউদ্দিন, তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল, ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য পাঠানোর ফান্ডে সঞ্চিত টাকা থেকে ফাতেমা ও তার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য ১০ লক্ষ টাকার যৌথ নামে (ইউএনও ও ফাতেমার দাদার নামে) এফডিআর করা হয়েছে বৃহস্পতিবার দিন।
এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় ফাতেমার বাবা-মা ও বোনের কবর বাঁধানো হবে। ফাতেমার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
ফাতেমার বোন জান্নাত, ভাই এবাদতের বিনামূল্যে লেখা পড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য পাঠানোর ফান্ডে সঞ্চিত টাকা থেকে ফাতেমা ও তার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য ১০ লক্ষ টাকার যৌথ নামে এফডিআর করা হয়েছে। এফ ডি আর এর লভ্যাংশ দিয়ে যাতে করে ফাতেমার পরিবারের সদস্যদের লেখা পড়াসহ ভরণপোষণের ব্যবস্থা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ২০২২ সালে ফাতেমার বাবা শ্রমিক জাহাঙ্গীর তার গর্ভধারিণী স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক কোট ভবনের সামনে পারাপারে দ্রুতগতি টাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাবা-মা ঘটনাস্থলে নিহত হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে অলৌকিকভাবে পেট ফেটে বেঁচে যায় শিশু ফাতেমা। পরে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও ফাতেমার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় মোনাজাত করা হয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

