ঝোপালো গাছে থোকায় থোকায় বেদেনা ফলের আশার স্বপ্ন বুনছে শিবলি সাদিক শুভ। এক সময় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী মধ্যপাড়া গ্রামের স্থানীয়রা যাকে পাগলা শিবলি বলে ব্যাঙ্গো করতো, আজ তারাই তাকে লক্ষপতি শিবলি বলছে।
পড়ালেখা শেষে চুকরীর পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়েছে তিনি। ভারতের ১াট বেদেনার চারা থেকে বর্তমান ৩০০ বেদেনার গাছের মালিক তিনি। গত ৩বছর পূর্বে ভারতে গিয়ে বেদেনার প্রেমে পড়েন শিবলি। ভারত থেকে বেদেনার একটি চারা ক্রয় করে দেশে নিয়ে এসে রোপন করেন। ওই গাছ থেকে আশানুরূপ ফলন পাই।
উদ্যোক্তা শিবলি বলেন, একটি সময় জীবন জীবিকার জন্য বিভিন্ন প্রান্তরে ছুঁটেছে তিনি। তবে গত ৩বছর পূর্বে কোন এক কাজে সে ভারতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জাতের আনার বা বেদেনার বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়। দেশে ফেরার পথে সে একটি বেদেনার চারা কিনে নিয়ে আসে। তার বাড়ির পাশের্^ গাছটি রোপন করে। বারো মাসের ফলনের এই গাছ থেকে বেশ ভালো ফলন পাই। বেদেনার ফলন দেখে তার নতুন কিছু উদ্ভাবনার সৃষ্টি হয়। ওই গাছ থেকে সে কলম চারা তৈরী করে ২বিঘার একটি পূর্নাঙ্গ বাগান তৈরী করে। বর্তমান মোট ৭বিঘায় পাঁচটি জাতের বেদেনার গাছ রয়েছে তার বাগানে। এই বাগানে ৮জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। গত এপ্রিলে সে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার বেদেনা বিক্রয় করেছে। আগামীতে সে সারা দেশব্যাপী বেদেনা শিবলি নামে পরিচিতি পাবে। বর্তমান তার ধ্যান ও ভাবনা শুধু এই বাগান নিয়ে।
উপজেলার স্থানীয়রা বলেন, এক সময় সে অনেক কষ্ট করেছে। তাকে সবাই পাগলা বলে ব্যাঙ্গো করতো। তবে সে পড়ালেখা করে চাকুরীর পেছনে ছুঁটেনি। কোন এক সময় পেয়ারা বাগান করে বেশ অনেক টাকার লোকশানের মুখে পড়ে। তবে সে পিছু হটে যায়নি। নতুন করে শুরু করে আনার চাষ। এখন তার প্রশংসা বয়ে বেড়াচ্ছে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ।
শিবলির বেদেনার বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী কলেজের শিক্ষক খোরশেদ আলম ও নজুরুল ইসলাম বাচ্চু জানান, এই বাগানের প্রশংসা বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীদের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে। একটি ফলের বাগান এতো পরিচ্ছন্ন হতে পারে তা জানা ছিল না। তার বাগানে বেশ ভালো ফলের সম্ভবনা রয়েছে। এই উদ্যোক্তা চাকুরী না করে নিজে কর্মসংস্থানে অন্যদের কর্মের সুযোগ করে দিয়েছে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন হাসান বলেন, জেলার মধ্যে সর্বচ্চ ভালো মানের বেদেনার বাগান করে সুনাম অর্জন করেছে শিবলি সাদিক শুভ।
বারো মাস জাতের এই বেদেনা তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই বাগানে কোন ধরনের কিটনাশক বা বালায় নাশক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে না। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই পরিচর্যা করছে বাগান। উপজেলা কৃষিদপ্তর থেকে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়। আগামীতে সরকারী বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ থাকলে তার পাশে থাকবে কৃষি দপ্তর।
পড়ুন : দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আশঙ্কা
সা/


