বিজ্ঞাপন

ইছাপুরায় বালু নদীতে ১০ কোটি টাকার নৌ টার্মিনাল এখন পরিত্যক্ত গোডাউন

“ঢাকা শহরের চারিদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথ চালুকরণ” প্রকল্পের অর্থায়নে ২০১১ -১২ অর্থ বছরে ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যায়ে বালু নদীর ঘাটে ১৫ বছর পূর্বে নির্মাণ হয়েছিলো দুটি ল্যান্ডিং স্টেশন। একটি টঙ্গী অপরটি রূপগঞ্জের ইছাপুরায়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি চালু হলেও যাত্রী না পেয়ে বন্ধ হয়ে যায়৷ এ সুযোগে বিআইডব্লিউটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইছাপুরা বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী ইজারাদার দুলাল মিয়ার মাধ্যমে গোডাউন ও দোকানঘর হিসেবে দখলে নেয়। এতে সরকারী স্থাপনা বেহাত হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্বিকার।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বালু নদীর বিভিন্ন স্পটে বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন প্রকল্পে প্রথম পর্যায় কাজ শুরু হয় ২০০১ থেকে ২০০৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১১ সালে ইছাপুরাসহ মোট ৪টি (টঙ্গী, ইছাপুরা, কায়েতপাড়া ও কাঁচপুর) ল্যান্ডিং স্টেশন ও নৌ-পথ উন্নয়ন অবকাঠামো গড়া হয়৷ সূত্রমতে ইছাপুরা ও টঙ্গী ল্যান্ডিং স্টেশনে আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছিলো ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা প্রায়। ঢাকার চারদিকে নৌ পথে যাতায়াত সুবিধায় সৃষ্ট প্রকল্পে যাত্রী না পাওয়ায় অযুহাতে স্থবির হয়ে পরে। এ সুযোগে ইছাপুরা বাজার ঘাটের সাবেক ইজারাদার দুলাল মিয়া ধারাবাহিক ভাবে গত ৬ বছর ধরে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ড. আব্দুর রহমান, ফজলুর রহমান, স্বপন, মিজান, রেভিনিও কালেক্টর সাইফসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে মাসোয়ারা দিয়ে দখলে রাখে।

শুধু তাই নয়, ভবনের সামনের অংশে নিজের দোকান, পাশে ফল ব্যবসায়ীদের দোকান, ভেতরে ডেকোরেটর ভাড়া,আর ঘাট এলাকায় লাকড়ীর দোকান দিয়ে ভাড়া আদায় করেন৷ অভিযোগ রয়েছে এসব ভাড়া থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশ দিয়েই দুলাল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার দাবী দেখাশুনার দায়িত্ব তার।

দখলদার কথিত ঠিকাদার দুলাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৬ বছর ধরেই আমি ইছাপুরার এই নৌঘাট বা টার্মিনাল দেখাশুনা করি। আমি হাটের ইজারাদার ছিলাম। তাই বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্যে কিছু দোকান ভাড়া দিয়েছি। সেই টাকা থেকে রাজস্ব আদায়কারী সাইফসহ কয়েকজন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এলে তাদের চা পানির খরচ দেই।

এদিকে ল্যান্ডিং স্টেশনের অবৈধ দখল নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবী ভিন্ন। তাদের দাবী পরিত্যক্ত ভবন রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়েই গোডাউন হিসেবে অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে দাবী করেছেন অপর ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি টার্মিনালের কক্ষে সাউন্ড বক্স রেখে বর্ষা মৌসুমে পিকনিক ট্রলারে ভাড়া দেই। ২ মাস থাকি। কিন্তু নৌ টার্মিনালে কোন কর্মকর্তা থাকেননা। কখনো দেখিনা। ফলে ব্যবসায়ীরা এর পাশে ফলের দোকান,লাকড়ীর দোকান বসিয়েছেন।

নিয়মমতে টঙ্গী অথবা ডেমরা জোনের কোন কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করার কথা। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে নির্মাণের পর কর্মকর্তাহীন ফাঁকা ভবন পালাক্রমে দখলে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা৷ এসব বিষয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ নৌ-টার্মিনাল বিষয়ে সক্রিয় হননি। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তা ভবনটি ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়৷ এবল তা অকপটে স্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর টঙ্গী জোনের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ সাইফ বলেন, দুলাল নিজ উদ্যোগে দেখাশুনা করেন ভবনটি। এরআগে সরকারী ট্যাক্সি পরিবহন সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে কোন কর্মকর্তাকে এখানে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে টার্মিনালে লোক নেই। তবে দেখভাল করতে যাই। মাঝেমধ্যে চা পানির খরচ অন্যরা আনলেও আমার তা জানা নাই।

স্থানীয়রা মনে করেন, রূপগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা, যা বালু নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং বেরাইদ ও খিলক্ষেতের কাছাকাছি এলাকায় নৌ টার্মিনাল সচল হলে নদীপথে সহজে যাত্রী পরিবহন, মালামাল আনা-নেওয়া এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো সম্ভব হতো৷ কিন্তু অবৈধ দখলদারদের কারনে বেহাত হয়ে আছে সরকারী স্থাপনা। কাজে আসছেনা নৌ পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনে৷

উর্ধতন মহলকে জানিয়ে স্থাপনা সরকারের দখলে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি একাধিকবার ইছাপুরার হাটে সংশ্লিষ্ট।নৌ ঘাট ও টার্মিনাল দেখেছি। বেদখল হয়ে আছে। আমি বিআইডব্লিউটিএর উর্ধতনদের চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি
এর প্রকৌশল বিভাগের ভবন দখলমুক্ত করে ইছাপুরা বাজার নৌ টার্মিনাল সচল করে নৌ পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের কাছে বুঝিয়ে দেব।

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন