বিজ্ঞাপন

নাটোরে গত ১ মাসে লাম্পি রোগে আক্রান্ত ২১ হাজার গরু, মৃত্যু ৪০

নাটোরের লালপুরে গত এক মাসে লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে ২১ হাজার গরু আক্রান্ত ও ৪০ টি গরু মারা গেছে। বর্মানে উপজেলায় এই রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত টিকা স্বল্পতা, পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণ এর অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন হলেও বরাদ্দের পরিমান খুবই কম। সর্বশেষ সরকারিভাবে টিকা এক হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ পেয়েছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত ক্ষুদ্র খামারি।

উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি ও দিনমজুর মো. ফিরোজ আলী জানান, একসময় তার পাঁচটি গরু ছিল। লাম্পি রোগের কারণে লোকসানে সেগুলো বিক্রি করে তিনটি নতুন গরু কেনেন। কিন্তু এর মধ্যে একটি গরুর তিন মাস বয়সি বাছুরটি ২৭ দিন ধরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর চিকিৎসা পাননি। তার দাবি, সময়মতো সরকারি টিকা পাওয়া গেলে এত ক্ষতি হতো না।

স্থানীয় পশুপল্লী চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন জানান, শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নেই গত এক মাসে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবের চেয়ে স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালপুরে মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার চেয়ে বরাদ্দকৃত টিকার ডোজের সংখ্যা খুবই কম। সর্বশেষ ১ হাজার ডোজ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

লালপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, উপজেলায় লাম্পি রোগের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত টিকা স্বল্পতার কারণে এই রোগের সংক্রমন বেড়েছে। এছাড়া টিকা নিতে খামারীদের অনিহা আরেকটি কারণ। উপজেলায় চাহিদার তুলনায় সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত ভ্যাকসিনের পরিমাণ কম থাকায় পর্যাপ্ত টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ মেয়াদে আমরা ১ হাজার টিকা বরাদ্দ পেয়েছিলাম যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে বাধ্য হয়ে খামারীরা বেসরকারি টিকা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিটি সরকারি ডোজের মূল্য যেখানে ৫০টাকা, সেখানে বেসরকারি ডোজের মূল্য ২২০-২৩০টাকা। এতে করে খামারীদের অনিহা বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে এই রোগের সংক্রমণ অনেক কমে যায়।

পড়ুন: ভবনের ছাদ থেকেই শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসনের অভিযান: ডিসি জাহিদ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন