বিজ্ঞাপন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের কাছে আরও প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে দেশটির সরকার। এ নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের এক শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, চলমান যুদ্ধ এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয় মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে কীভাবে এই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আবেদন করেন। এর বেশিরভাগই ইরান যুদ্ধের জন্য চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শুনানিতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা অভিযোগ করেন, যুদ্ধের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথভাবে অবহিত করছে না।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিচ্ছেন এবং এমন কিছু মন্তব্য করছেন, যা যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা তৈরি করছে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড বলেন, প্রশাসনের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে নাকি এখনও চলছে—এ বিষয়ে সরকার স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারছে না।

শুনানিতে পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, জরুরি অর্থ বরাদ্দ না পেলে সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করতে হতে পারে। যুদ্ধের কারণে প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনেরও আহ্বান জানান।

যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, অর্থ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ ব্যাহত হতে পারে।

রয়টার্সের খবরে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই পক্ষই প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন সেনা। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, আহতদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র এবং পাহাড়ের গভীরে থাকা সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি জানান, ওই পারমাণবিক স্থাপনায় খুব শিগগিরই হামলা চালানো হবে।

পড়ুন : সৌদি আরবকে পারমাণবিক চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন