বিজ্ঞাপন

‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ নিয়ে এবি পার্টির আলোচনা

এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়” শীর্ষক আলোচনা সভা আজ রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ৫ মে’র নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে মরেছে। মা-বোনেরা ঘরে বসে কেঁদেছে, দোয়া করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাস্তায় নেমেছে। ফ‍্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে; এটা হলো বাস্তবতা এবং গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য‍্য।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চলনায় আজ সকালে দলের বিজয় নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী,ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান,খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ, মোঃ আলিফ প্রমূখ।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১ এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামীলীগের এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এদেশে রয়ে গেছে তারা এখন ইনিয়ে বিনিয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সাধারণত আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতির সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৭, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে আলেম সমাজের পাশে সমাজের বৃহত্তর অংশ দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি কিছু রাজনৈতিক দলও শেষ পর্যন্ত তাদের পাশে থাকেনি। এরপর সরকার বিরোধী সব কণ্ঠ দমন করে, যা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকে আরও সুগম করে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়। এরপর নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামলে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামারা জাতির শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।

খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয় এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছে।

ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আজ জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবিতে ছাত্রদলের দোয়া-মিলাদ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন