বিজ্ঞাপন

নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি আজ বৃহস্পতিবার (২৩-০৭-২০২৬) ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-এঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তাঁর মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। এছাড়াও, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে অপরাহ্নে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর/গ্রহণ বইতে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ০১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌ ঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন। এছাড়াও ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসাধারণ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সামরিক সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নতুন দায়িত্বে ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন