ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা স্বামীর মোবাইল নাম্বারে নিয়ে চাকরি শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আয়েশা আক্তার নামে এক শ্রেনি শিক্ষিকা। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গত ৯ জুলাই জাগোনিউজ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অভিযুক্ত আয়েশা আক্তার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ছিলেন, তিনি বর্তমানে উপজেলার মিনারকুটে এন আই ভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষক আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত শুনানির জন্যে তলব করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে উপবৃত্তির জন্য মনোনীত হয় রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সময়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ মিয়া। তবে উপবৃত্তির জন্য পরশের কারো মোবাইল ফোন নম্বর না দিয়ে ওই সময়ের শ্রেণি শিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের নম্বর দিয়ে দেন। এরপর থেকে ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির টাকা জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে ইব্রাহিম খলিলে ফোন নম্বরে ৪৫০০ টাকা জমা হয়।
গত ৯ জুলাই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ অনিয়মিত আসার বিষয়ে কথা বলতে ক্লাশ চলাকালীন পরশের মাকে ডেকে আনেন শ্রেণি শিক্ষক স্বীকৃতি রায়। এ সময় পরশের মা খুকি বেগমকে বলা হয় নিয়মিত না এলে উপবৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ কথা শুনে খুকি বেগম জানান, তার ছেলে এখনো উপবৃত্তি পান না। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তিনি নামের পাশে থাকা ফোন নম্বরে কথা বলার পরামর্শ দেন। কাগজে থাকা নম্বর দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পরশের কোনো স্বজনের নম্বরে টাকা যাচ্ছে না। যে নম্বরটিতে যাচ্ছে সেটি বর্তমানে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে থাকা আয়েশা আক্তারের স্বামী চট্টগ্রামে কর্মরত ইব্রাহিম খলিলের নম্বরে। প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক ওই নম্বরে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষক ওই মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ইব্রাহিম খলিল ফোন ধরেননি। পরে অন্য এক শিক্ষক ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন ও নিজের নামের সত্যতা স্বীকার করেন। পরশের মাও ওই ফোন নম্বরে কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে একই দিন বিকেলের দিকে ২৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং জানানো হয় আড়াই বছরে ওই টাকাই পাওয়া গেছে।
পড়ুন : মাঠ প্রশাসনে নারীর নেতৃত্বে নতুন রেকর্ড: ২০ জেলায় ডিসি, ১৯১ উপজেলায় ইউএনও
সা/


