সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে সংসদ সচিবালয়ে । এ নিয়ে সংসদে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন স্পিকার।
স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’
‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি’-যোগ করেন তিনি।
এর আগে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে আজ দুপুরে দেশে ফেরেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, সে সম্পর্কে সাংবিধানিক নিয়মও ব্যাখ্যা করেন স্পিকার।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে।’
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের অবস্থান।’
গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংকক যান স্পিকার। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনার জোর গুঞ্জন ওঠে। ফলে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা আরও জোরদার হয়।
পড়ুন: পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
আর/


