রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অতি সম্প্রতি এ আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, আলোচনায় থাকা তিন নেতা হলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সে কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হতে পারেন। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের একাধিক নেতা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
তবে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলেও ওই সূত্রের দাবি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন? আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।’
স্ট্যাটাসে ড. আসিফ নজরুল আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও তিনি সন্তানসম ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপিতে উপযুক্ত আরও কয়েকজন নেতা রয়েছেন। তবে তার মতে, সার্বিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তিনিই সম্ভবত সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী।
পড়ুন: সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী
আর/


