রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত পাঠদান থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারনে অভিভাবকদের খোব।
উপজেলার মেরামতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮২ শিক্ষার্থীর জন্য ৬জন শিক্ষক রয়েছেন। এই স্কুলে শিশু থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান দেওয়া হয়। স্কুলে শিক্ষকদের অভিযোগের কারনে রবিবার ১২টার দিকে স্থানীয় সচেতন ব্যাক্তি ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পাঠদান বিষয়ে জানতে স্কুলে যান। ওই সময় তারা দুইজন শিক্ষক উপস্থিত দেখতে পাই। বাকি শিক্ষকদের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা খোবে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে পূনরাই তালা খুলে দিয়ে সচল করে দেন সকল কার্যক্রম।
উপস্থিত সচেতন জনগন ও অভিভাবকগন নিজেরাই ছবি ও ভিডিও ধারন করে মিডিয়া প্রতিনিধিকে দেয়। পরে তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসে। অভিযোগ সূত্রে সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) আবু বক্কর সিদ্দিক শাহ ওই স্কুল পরিদর্শন করেন এবং সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা অফিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
স্থানীয় অভিভাবকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত বক্তব্যে বলেন, মাসের পর মাস ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক যাথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রায় ১১টার সময় তার কর্মস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। অপরদিকে অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান না দিয়ে নিজেদের গল্প করে সময় ক্ষেপন করেন। বিষয় গুলো অনেকদিন যাবত তারা গুঞ্জন শুনছিলেন। এই অভিযোগের প্রমান খুজতে রবিবার ১২টার সময় ৬-৭ জন অভিভাবক বিদ্যালয়ে যান। ওই সময় তারা ২জন শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তারা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন।
একাধিক ছাত্র ও ছাত্রী শিক্ষকদের শাষনের ভয়ে কিছু বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। তবে শিক্ষার্থী বলেছে, কিছু বললে ম্যাডাম লাঠি দিয়ে মারবে। যার কারনে তাদের বক্তব্য রেকড করা হয়নি।
অভিযোগের সূত্র নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) ফাতিমা খাতুন বলেন, এটিও কে স্কুল তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষকরা সঠিক সময়ে উপস্থিত না থাকার কারনে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পড়ুন:সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা
ইমি/


