বিজ্ঞাপন

ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে মাদকসেবীদের দিয়ে চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ ; চুরি বাড়ায় অতীষ্ঠ রূপগঞ্জবাসি

বাড়ি ঘরের নিত্য ব্যবহার্য্য পুরনো লোহা, প্লাস্টিক, টিন জাতীয় ভাঙা ও নষ্ট জিনিসপত্র কেজিদরে ক্রয় করে পুনরায় সংশ্লিষ্ট মিল কারখানায় কাঁচামাল বিক্রির প্রতিষ্ঠান দিয়ে বৈধ উপায়ে ভাঙ্গারী ব্যবসা হওয়ার কথা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আনাচে কানাচে ভাঙ্গারী দোকানের আড়ালে চলছে চোরাই পন্যক্রয়ের হিড়িক৷ এতে স্থানীয় মাদকসেবী তরুণ সমাজ নগদ টাকা জোগার করতে প্রতিদিন নানাভাবে ঘটাচ্ছে চুরি ও ছিনতাই কর্ম। এতে নাগরিক নিরাপত্তা চরম বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভায় প্রায় ২ শতাধিক ভাঙ্গারী ব্যবসা পরিচালনা করছে একটি ফেরীওয়ালা ভিত্তিক ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে এসব ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে বেশ কয়েকটি চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে স্ব স্ব এলাকায়। তাদের রয়েছে পরস্পরের যোগসাজসও। এসব ব্যবসায় জড়িতদের নিয়োগকৃত ফেরীওয়ালারা দিনভর গাট্টা, শনপাপড়ি,মিঠাই, বাদাম, আইসক্রিম দিয়ে ছোট শিশুদের টার্গেট করে ভাঙ্গারী মালামাল সংগ্রহ করে। পাশাপাশি গৃহবধূদের কাছ থেকে কেজিদরে নানা প্রকার পুরনো পন্য ক্রয় করে থাকে। কিন্তু এসব ব্যবসার আড়ালে একটি চক্র উপজেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, দাউদপুর,কায়েতপাড়া, কাঞ্চন, মুড়াপাড়া, গোলাকান্দাইল, ভোলাবো, ভুলতা, তারাবোতে চোর লালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, তাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তারাবো পৌরসভা ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় বেড়েছে চুরি,ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, ভাঙ্গারীর আড়ালে এলাকার মাদকসেবিদের চোর তৈরী করে লোকজনের ওঠানে থাকা লোহা,রড, টিন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গোয়ালের গরু, অটোরিকশাও নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সড়ক মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই। এভাবে রূপগঞ্জের সবকটি গ্রামেই অনিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে।

মধুখালীর বাসিন্দা উকিল মিয়া জানান, মাদকসেবীরা আমার বাড়ির পাশে রাখা অটো থেকে ৪ টি ব্যাটারী খুলে নিয়ে গেছে৷ পরে জানতে পারি মধুখালীর রনি ও সাজিদ আমার অটো থেকে চুরি করেছে। তারা উভয়ে ইয়াবা সেবন করে। আর ইয়াবার টাকা জোগাতেই চুরি করে বলে স্বীকার করেছে।

একইগ্রামের তারা মিয়ার বাড়ির মুরগীর ফার্ম থেকে ১১ টি ফ্যান চুরি করে চোর সিন্ডিকেট। পাশাপাশি গ্রামের অন্তত ৫০ টি পরিবার থেকে গত ১৫ দিনে চুরির ঘটনা ঘটায় একটি চক্র।

ব্রাহ্মণখালীর বাসিন্দা জান্নাতুল নাইম বলেন, আমার বাসার জানালার পাশ থেকে মোবাইল চুরি করে নিয়ে গেছে স্থানীয় মাদকসেবী। তারা আবু তাহেরের ভাঙ্গারী দোকানে পুরনো মালামাল বিক্রি করে জানতাম।

মধুখালীর বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, আমাদের কবরস্থানের পাকা সীমানা প্রাচীর থেকে পিলারের রড কেটে বিক্রি করে দিয়েছে আলী নামের এক মাদকসেবী৷ এসব নিয়ে সামাজিক বিচারেও রোধ করা যাচ্ছে না৷

পূর্বাচলের বাসিন্দা শরাফত আলী বলেন, প্রতিদিন পূর্বাচলে চুরি হয়। একটি প্লটেরও বাউন্ডারি গেইট নাই। এসব ভেঙে ভাঙ্গারীতে বিক্রি করে দেয় মাদকসেবীরা৷

অভিযোগ রয়েছে ভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের দিয়ে চুরির কাজ করানোর৷ ফেরীওয়ালারা দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোন মালামাল কোথায় আছে লোকেশন বলে দেয় সরাসরি চোরকে। এভাবে তাদের নিয়োগকৃত চোর চক্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে বাসিন্দাদের মূল্যবান মালামাল। সুযোগবুঝে ঘর থেকেই খোয়াচ্ছে টাকা ও স্বর্ণালংকার৷

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচলের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শামীম মিয়া বলেন, আমরা কোন ব্যবসায়ী চোর লালন করি না। ফেরীওয়ালা দিয়ে বাড়ি বাড়ি ডেকে ডেকে মাল ক্রয় করি।

অপর ব্যবসায়ী মধুখালী এলাকার আবু তাহের মিয়া বলেন, কোনটা চুরির মাল কোন মালিকের তা বুঝা যায় না। অনেক তরুন কিছু রড নিয়ে এসে বলে এসব তাদের কাজে লাগবে না। কিনে রেখে দেন। পরে আমরা টাকা দিয়ে কিনে রাখি। তবে সামনে থেকে জানার চেষ্টা করবো এসব মালামালের প্রকৃত মালিক বিষয়ে।

অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎতের খুঁটি থেকে চলমান বিদ্যুৎ ‘র তার কেটে ভাঙারী দোকানে বিক্রির। পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের বৈদ্যুতিক তারসহ ট্রান্সফরমার বোতল চুরিও করছে ভাঙ্গারী দোকানের লালনকরা এসব চোর সদস্যরা৷

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচ এম সালাহউদ্দিন বলেন, কোথাও চুরির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের চোরাই মালামাল ক্রয় না করতে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় তাদেরও আইনের আওতায় নেয়া হবে।

পড়ুন:সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন