গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ছয় মাসের গর্ভে থাকা জমজ দুই সন্তান হারানোর দাবি করেছেন এক দম্পতি। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করেন। পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার বিকেলে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হোসনেয়ারা বেগম হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে কোনাবাড়ী এলাকার একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আনোয়ারা পারভীন তাকে একটি ঔষধ সেবন করান।
পরিবারের দাবি, ঔষধ সেবনের প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে হোসনেয়ারা বেগমের তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে অকাল প্রসবের মাধ্যমে ছয় মাসের গর্ভে থাকা জমজ দুই সন্তানের মৃত্যু হয়।
ওমর ফারুকের অভিযোগ, ঘটনার পর চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হলেও পরে তিনি ব্যবহৃত ঔষধের নাম জানান। সেই নাম নিয়ে অন্য এক অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি জানান, এটি প্রসববেদনা ত্বরান্বিত করতে ব্যবহৃত ঔষধ, যা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ থেকেই অকাল প্রসব হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল ঔষধ প্রয়োগের কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আনোয়ারা পারভীন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তার দেওয়া ঔষধের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে—এ অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, দুই অনাগত সন্তান হারিয়ে গভীর শোকে রয়েছেন ওমর ফারুক ও হোসনেয়ারা বেগম। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পড়ুন : দুর্বল হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল
সা/


