দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ চিনিকলসহ দেশের ১৩টি চিনিকল এবং ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ ও কৌশলগত বিক্রয়ের উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের উদ্যোগে সেতাবগঞ্জ শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেতাবগঞ্জ চৌরাস্তা বাজারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনার দাবিতে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মোহাম্মদ লিমন খন্দকার। তিনি বলেন, ২০২০ সালে চিনিকল বন্ধের সময় তৎকালীন সরকার, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, চিনিকল শ্রমিক ফেডারেশনের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ এবং যেসব ব্যক্তি দুর্নীতি, অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চিনিকল বন্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন আন্দোলন পরিষদের অন্যতম নেতা বদরুদ্দোজা বাবন ও শহিদুল ইসলাম, ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. ফয়সাল মোস্তাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে কৃষক ও আখচাষি সাফিউদ্দিন, মোশারফ হোসেনসহ সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া শত শত শ্রমিক, আখচাষি, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সেতাবগঞ্জ চিনিকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে সেতাবগঞ্জ শহর অচল করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে চিনিকল পুনঃচালু এবং বেসরকারিকরণের উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জানান তারা।
পড়ুন : জাপানে ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
সা/


