ঢাকার সাভারে একটি মাদ্রাসায় ১৫ জন শিশু শিক্ষার্থীকে ভেতরে আটকে রেখে শিক্ষক-শিক্ষিকারা পালিয়ে গেছেন।
আজ দুপুরে সাভারের উলাইলের কর্ণপাড়া এলাকায় দাওয়াতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা ও হুমায়রা জান্নাত হিফজ বালিকা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভবনের মালিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে ভবনটির তৃতীয় তলার পুরো ফ্লোর ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল আনাস আলী। সেখানে তাঁর পাশাপাশি তিনজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষিকা কর্মরত ছিলেন। মাদ্রাসাটিতে ছেলে ও মেয়েসহ প্রায় ৬০ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে।
কয়েক দিন আগে প্রিন্সিপাল আনাস আলীর বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আজ সকালে কয়েকজন অভিভাবক মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে ভবনের মালিকের কাছে অভিযোগ করেন। পরে ভবনের মালিকের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা প্রিন্সিপালের কক্ষে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হন। তবে ভবনের মালিকের ছেলে অভিভাবকদের নিবৃত করে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
বেলা ২টার দিকে হঠাৎ মাদ্রাসার ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। ভবনের মালিক সেখানে গিয়ে দেখেন, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা নেই। ভেতরে আটকে থাকা শিশুরা কান্নাকাটি করছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
ভবনের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকালে কয়েকজন অভিভাবক তাঁকে খুঁজতে আসেন। পরে তিনি ও তাঁর ছেলে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আনাস আলী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছেন। পরে তাঁর ছেলে অভিভাবকদের নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে গেলে তাঁরা তাঁকে( প্রিন্সিপ্যাল)মারধরের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি শান্ত করে সন্ধ্যায় আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দুপুরেই প্রিন্সিপালসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা পালিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীদের কান্নার শব্দ শুনে দরজা খুলে তাদের বের করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল আমিন বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, মাদ্রাসার শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে গেছেন। ভবনের মালিক গেট খুলে শিক্ষার্থীদের বের করেন। পরে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে বাড়ি চলে যায়। পাঁচজন শিক্ষার্থী ভবনের মালিকের বাসায় ছিল। পরে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ মাদ্রাসার একটি তালাবদ্ধ কক্ষের তালা ভেঙে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যাগ এবং শিক্ষকেদের কিছু ফাইল ও নথিপত্র উদ্ধার করেছে। শিক্ষকেদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী কয়েক ঘণ্টা নিখোঁজ ছিল। পরে সে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি।
পড়ুন:এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, সারজিস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত
ইমি/


