বিজ্ঞাপন

হলিউডের শুটিং সেটে মেসির জন্য বদলে যায় সব নিয়ম

হলিউডের ব্যস্ত শুটিং সেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, একাধিক রিটেক কিংবা দীর্ঘ প্রস্তুতি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সেই সেটে উপস্থিত থাকলে লিওনেল মেসির জন্য বদলে যায় সব নিয়ম। নির্ধারিত সময় শেষ হলেই কাজ গুটিয়ে বিদায় নেন তিনি। আর যাওয়ার সময় সেটে শোনা যায় তার পরিচিত শব্দ ‘ভামোস’ (চললাম)।গোলডটকম

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি মাঠের মতো ক্যামেরার সামনেও সময়ানুবর্তিতার জন্য পরিচিত। বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের বাইরে থাকেন না। ফলে পরিচালক থেকে শুরু করে পুরো প্রযোজনা দলকে অল্প সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্পোর্টস টক শো ‘দ্য ড্যান প্যাট্রিক শো’তে অতিথি হয়ে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানান হলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা উইল ফেরেল। তিনি জানান, আলুচিপস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেস-এর একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে মেসির সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেতা স্টিভ ক্যারেল। সেই অভিজ্ঞতার কথাই পরে তাকে জানান ক্যারেল।

ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মেসির জন্য শুটিং সেটে একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। তিনি সেটে থাকেন মাত্র ৩০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যেই তার সব দৃশ্য ধারণ করতে হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তিনি আর অপেক্ষা করেন না। কাজ শেষ হোক বা না হোক, তিনি বিদায় নেন।

এই সীমিত সময়ের কারণে পরিচালকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সাধারণত বিজ্ঞাপন বা চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে আলো, ক্যামেরা কিংবা অন্যান্য কারিগরি কারণে একাধিকবার দৃশ্য ধারণ করতে হয়। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুবই সীমিত। তাই ক্যামেরা চালুর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে হয়, যাতে তিনি সেটে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুটিং শুরু করা যায়।

বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেন ফেরেল। তার ভাষায়, সবাইকে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়, নয়তো মেসি উঠে দাঁড়িয়ে শুধু বলবেন, “ভামোস”, এরপরই সেট ছেড়ে চলে যাবেন।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও মেসির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহু প্রতিষ্ঠান তাকে নিজেদের বিজ্ঞাপনে যুক্ত করতে আগ্রহী। তবে সেই সুযোগ পেলেও তার সময় ব্যবস্থাপনার নিয়মের সঙ্গে সবাইকে মানিয়ে নিতে হয়।

এদিকে বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে সময়ানুবর্তিতার আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর লিয়ান্দ্রো পারেদেস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার ধারণা মেসি হয়তো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি ইতোমধ্যেই খেলে ফেলেছেন। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেসি আরও কিছুদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ মেসির নিজের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হলিউডের ব্যস্ত শুটিং সেটে সময়ের এক সেকেন্ডও নষ্ট করতে চান না লিওনেল মেসি। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন সময়ই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে আরও খেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।

পড়ুন : মারা গেলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফুটবলার

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন