হরমুজ প্রণালির রুট নিয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব ওমান গ্রহণ করলেও জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মালাক্কা প্রণালির আদলে হরমুজে টোল আদায়ের যে পরিকল্পনা ওমান দিয়েছে, তার সঙ্গে ইরানের প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আরোপের পরিকল্পনা ওয়াশিংটন মেনে নেবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্প্রতি এ জলপথকে ঘিরে রুট-সংক্রান্ত বিরোধ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সমস্যা সমাধানে একটি প্রস্তাব দেয় ওমান। সেখানে হরমুজের নৌপথ সমান দুই ভাগে বিভক্ত করার কথা বলা হয়। অর্থাৎ, জলপথের ৫০ শতাংশ ইরান এবং বাকি ৫০ শতাংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মাস্কটের কাছে পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ইরান চায়, প্রণালির ট্রানজিট করিডরের পাশাপাশি ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া অংশেরও নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকুক। তেহরানের দাবি, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য এটি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওমান এ প্রস্তাবে রাজি না হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও সতর্ক করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের প্রস্তাব ওমান গ্রহণ করবে কি না, আর করলেও হরমুজকে ঘিরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রুট নয়, হরমুজকে ঘিরে আরও কয়েকটি বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো টোল আদায়ের বিষয়টি।
সবশেষ ইরানের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে ওমান মালাক্কা প্রণালির মডেলের কথা উল্লেখ করেছে। ওই ব্যবস্থায় স্বেচ্ছামূলক ফি থেকে বছরে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার আয় করে উপকূলবর্তী দেশগুলো। জলদস্যুতা দমন ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করে।
অন্যদিকে, হরমুজে টোল আদায়ের বিষয়ে তেহরানের প্রাথমিক প্রস্তাবে জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যা মালাক্কা মডেলের তুলনায় ভিন্ন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আদায়ের এ পরিকল্পনা ওয়াশিংটন গ্রহণ করবে না।
পড়ুন: ৩ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আর/


