বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে ১৮ বিঘা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিবারের ১৮ বিঘা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দলীয় লোকজনের প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অন্যান্য সম্পত্তি দখলের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ফ্লোরা রেবা চৌধুরী।

এ সময় তাঁর সহদোর বোন কবিতা ইয়াসমিন চৌধুরী, ফাতেমা তৈমুর চৌধুরী ও সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বলছেন, তিনি বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর সম্পত্তি দখলে নিয়ে ভোগদখল করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরা রেবা চৌধুরী বলেন, তাঁদের বাবা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর দুই স্ত্রী। তাঁরা সহোদর সাত বোন এবং চার সৎ বোন ও এক ভাই। ১৯৮১ সালে রহস্যজনকভাবে পুকুর পাড়ে মারা যান। সে সময় বাবার মৃত্যুর সঠিক কারণ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯১ সালে তাঁর ভাই ইসা খাঁ চৌধুরী মারা যান। তিনি ও তাঁর বোনেরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর চাচাতো ভাই মোবায়দুর রহমান চৌধুরী তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের পৈত্রিক বাড়ি সংলগ্ন ৯ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর বিগত ৬০ বছর ধরে তাঁর বাবা ও তাঁরা ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই পুকুরটি চাচাতো ভাই মোবায়দুর রহমান স্থানীয় হাট চৌকগৌরী এলাকার বাসিন্দা রিপন ও হাসান নামের দুই ব্যক্তির কাছে দখলের জন্য হস্তান্তর করেন। রিপন ও হাসান স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে রেবা চৌধুরী ও তাঁর বোনেরা রিপন ও হাসানকে পুকুর দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে, তাঁরা মোবায়দুর চৌধুরীর কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে জানান। মোবায়দুর রহমান পৈত্রিক বাড়ি সংলগ্ন ওই পুকুর ছাড়াও গ্রামের মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি পুকুর এবং তাঁদের মালিকানাধীন গ্রামের আরও একটি পুকুর দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় রাসেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে তাঁদের মালিকানাধীন পুকুরগুলো লিজ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে ওই পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করতে দিচ্ছে না। ফ্লোরা রেবা চৌধুরী বলেন, পুকুর দখল ছাড়াও বিএনপি নেতা রিপন ও হাসানের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই মোবায়দুর রহমান তাঁদের ৭ বিঘা ধানী জমি দখল করে পুকুর খনন করছেন। জমি দখল করে পুকুর খননের ঘটনায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

ফ্লোরা রেবা চৌধুরীর অভিযোগ করে বলেন, ‘রিপন ও হাসান নিজেদের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিবাদে (মামলা) জড়ালে আমাদের অন্যান্য সম্পত্তিও দখল করে নেবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। জমি রক্ষা করা তো দূরে থাক এলাকায় আসলে এখন আমরা প্রাণ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে থাকতেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি কর্মী হাসান বলেন, ‘মোবায়দুর রহমান চৌধুরীর বৈধ কাগজপত্র দেখে আমি তাঁর পুকুর লিজ নিয়ে এক বছর ধরে মাছ চাষ করছি। এখন শুনতেছি, ওই পুকুরে নাকি মোবায়দুর রহমানের চাচাতো বোনদেরও ভাগ আছে। থানায় সালিসে বসে সালিসের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুকুর লিজ নেওয়ার অর্ধেক টাকা তাঁর চাচাতো বোনদের দিতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা টাকা নেয়নি। আমি জোর করে কারও পুকুর দখল করিনি।’

ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রিপন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই সব জমিজমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। হাসান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবায়দুর রহমানের পুকুরটা লিজ নিয়েছে। পুকুরটা লিজ নেওয়ার পর থেকেই মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে একটা ঝামেলা হচ্ছে। এলাকার বিবেকবান মানুষ হিসেবে এই সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করেছি। মানুষ যাতে ন্যায়বিচার পায় তাঁর পক্ষে কথা বলেছি। জোর করে কাউকে সম্পত্তি দখল করে দিইনি।’

জানতে চাইলে মোবায়দুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবা মোজাফফর চৌধুরী এবং চাচা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁরা ১৯৫৬ সালে এখানকার হিন্দুদের সঙ্গে মোট ৫৬০ বিঘা জমি এক্সচেঞ্জ করে মহাদেবপুরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এখন কাগজে-কলমে আমার বাবার নামে ১১২ বিঘা এবং চাচার নামে ১২০ বিঘা জমি রেকর্ড আছে। যেই দাগে আমার চাচাতো বোনদের জমি আছে সেই সব দাগে আমারও জমি আছে। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া আমার জমি তাঁরা দখল করে নেয়। এখন আমি আমার সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে বুঝে নিচ্ছে। এটা নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হয়েছে। থানা ও প্রশাসনের লোকজনেরাই বলেছে আমি জমি পাব। আমি যে পুকুর ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি সেটাই লিজ দিয়েছি। আমি কারও জমি দখল করেনি।’

পড়ুন : ৩ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন