গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈরে অনুমোদনহীনভাবে সার, কীটনাশক, মাছের ওষুধ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদন এবং বোতলজাতকরণের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমানের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা এনএসআই, গাজীপুর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ এলাকার নছের মার্কেটের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে ‘মাসকো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অনুমোদনহীনভাবে সার উৎপাদন ও কীটনাশক বোতলজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআইয়ের অনুমতি ছাড়া কীটনাশক বোতলজাত এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই পণ্য প্রস্তুতের অভিযোগে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া চক মাটি দিয়ে সার তৈরি করে প্রস্তুতকারক হিসেবে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাম ব্যবহারের অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কালিয়াকৈর উপজেলার সাকাশ্বর বরাব এলাকায় ‘বিনিময় ফিডস লিমিটেড’ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রাণিসম্পদ লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া প্যাকেজিং ও মানহীনভাবে মুরগির খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০ হাজার টাকা, মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসটিআই-সংক্রান্ত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনাবাড়ী থানাধীন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ এলাকায় নছের মার্কেটের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ‘মেসার্স দেশ ট্রেডিং’ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অনুমোদনহীনভাবে চক মাটি দিয়ে মাছের ওষুধ ও গুটি সার তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বিএসটিআইয়ের ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ২৪(২) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত অভিযানে সর্বমোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান জানান, অনুমোদনহীন ও মানহীনভাবে পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : বন্দরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর


