সারাদিন কটন মিলে শ্রমিকের কাজ। ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে যখন অন্যরা বিশ্রামের কথা ভাবেন, তখন শহিদুল ইসলাম ভাবেন একটি নতুন গাছের কথা। সংসারের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেও নিজের প্রয়োজনের আগে তিনি আলাদা করে রাখেন কিছু টাকা শুধু গাছ কেনার জন্য। সেই গাছই তিনি তুলে দেন শিশুদের হাতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে।এভাবেই টানা এক যুগ ধরে নীরবে সবুজের স্বপ্ন বুনে চলেছেন সিরাজগঞ্জের এই বৃক্ষপ্রেমী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চক কোবদাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ১১০টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি। চারাগুলোর মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লেবু, জলপাই ও বেল।
শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন কটন মিলে কাজ করে যা আয় হয়, সেখান থেকেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখেন। সেই অর্থে বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা কিনে তিনি সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণ করেন। গত ১২ বছর ধরে কোনো প্রচারের আশায় নয়, বরং পরিবেশকে ভালোবেসেই তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন।
গাছ বিতরণের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তিনি গাছের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। একটি গাছ শুধু ফলই দেয় না, দেয় ছায়া, নির্মল বাতাস এবং বাঁচিয়ে রাখে আগামী প্রজন্মকে—এই বার্তাও পৌঁছে দেন তাদের কাছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কামরুল নাহার বলেন, আমরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। একজন শ্রমিক হয়েও তিনি যে কাজটি করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক। পাশাপাশি সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও তার মতো উদ্যোগকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
চারা হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরাও। ছোট ছোট হাতে একটি করে গাছের চারা যেন তাদের কাছে শুধু একটি উপহার নয়, বরং প্রকৃতিকে ভালোবাসার প্রথম পাঠ।
শহিদুল ইসলামের গল্পটি প্রমাণ করে সমাজ বদলে দিতে বড় পদ বা বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন একটি বড় হৃদয় আর আন্তরিক ইচ্ছাশক্তি। সীমিত আয়ের একজন দিনমজুরও চাইলে হাজারো মানুষের মনে সবুজের বীজ বুনে দিতে পারেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শহিদুল ইসলামের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়াবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো। তাহলে একজন শ্রমিকের একার কাঁধে বহন করা এই সবুজ আন্দোলন একদিন রূপ নেবে সবুজ বাংলাদেশে।
পড়ুন : মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যামের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সা/


