হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে হারিয়েছেন কর্মক্ষমতা। মাত্র ছয় মাসের মাথায় ভেঙে যায় সংসারও। স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ দিয়ে চলে যান। এরপর আর নিজের বলে কোনো ঘর থাকেনি। আশ্রয় হয় একটি মসজিদে, আর খাবারের জন্য নির্ভর করতে হয় মানুষের দয়ার ওপর। এমন অসহায় জীবন কাটানো নূর ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নূর ইসলামকে এ সহায়তা করা হয়৷
দীর্ঘদিন ধরে চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন নূর ইসলাম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।
আবেদন পাওয়ার পর নূর ইসলামের জীবনসংগ্রামের কথা জেনে মানবিক বিবেচনায় তার চোখের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নূর ইসলামের কোনো স্থায়ী বসবাসের জায়গা নেই। বর্তমানে তিনি একটি মসজিদে থাকেন এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এমন পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ছিল একেবারেই অসম্ভব।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। নূর ইসলামের মতো মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে সেটিই আমাদের সার্থকতা। মানবিক রাষ্ট্র গঠনে জেলা প্রশাসন সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।”
আর্থিক সহায়তা পেয়ে নূর ইসলাম জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চোখের চিকিৎসার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমাকে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দেন।”
পড়ুন : মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের জন্য বড় যন্ত্রণা: বাণিজ্যমন্ত্রী


