পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে ভেজাল দুধ কারবারি আজিজলের ছেলে কৃষক দল বিলচলন ইউনিয়ন শাখার বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এই খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
জানা গেছে, ভেজাল দুধের ব্যবসায়ী মমিনের তথ্য পাবনার গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়ার কারণে চলতি বছরের ৯ জুন এলাকার চিহ্নিত ভেজাল দুধ কারবারি মমিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক গ্রামবাসীর উপরে সন্ত্রাসী হামলা এবং হামলার ঘটনায় হাশেম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। পরবর্তীতে নিহত হাশেম প্রামাণিকের পরিবার, গ্রামবাসী ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে মানব বন্ধনের মাধ্যমে মমিনের ফাঁসি দাবি করা হয়।
এ ব্যাপারে হাশেম হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই মো. আবুল কালাম জানান, মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় মমিনসহ অন্যান্য আসামিরা। সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত মমিন এবং মতিনকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে নটাবাড়িয়া বিশিপাড়া এলাকায় বহিষ্কৃত কৃষকদল নেতা আব্দুল মমিন তার বাড়িতে টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে সয়াবিন তেল, জেলি, ডিটারজেন্ট, কেমিক্যালসহ নানা উপকরণ দিয়ে শিশু খাদ্য নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার ভেজাল দুধ তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ও বাসা বাড়িতে বিক্রি করা হতো। বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানার পরেও প্রভাবশালী ও দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
উল্লেখ্য গত বছর ১৮ আগস্ট মমিনের দুধের কারখানা থেকে ৭’শ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করে প্রশাসন। অপর অভিযানে এই অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের ২০ আগস্ট মমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী।
পড়ুন : নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত ৩, কারফিউ জারি
সা/


