ইয়েমেনে সরকার ও বিদ্রোহী হুথি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি আরব অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, সৌদি জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন হুথি বিদ্রোহী নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো লক্ষ্য করে সৌদি জোট ৩০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া জেলায় সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগত বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সামরিক অগ্রগতির প্রতি সমর্থন এবং সৌদিবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে শুক্রবার রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে দুই পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথি পরিচালিত গণমাধ্যমের দাবি, তাজি ও আবস শহরে সৌদি বিমান হামলায় একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে।
হুথিদের দ্রুত ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌযান চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ায় ইয়েমেন পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা গোপন বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে হুথি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুথিদের ওপর সামরিক হামলার আহ্বান জানানো হলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা এড়াতে আপাতত নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের যৌথ সামরিক মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’-এর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এক বার্তায় বলেন, ‘সৌদি আরবে হুথিদের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; এটি সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত করছে।’
তিনি জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সল বিন ফারহান আল সাউদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
পড়ুন: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের তৎপরতা, বাড়ছে গোয়েন্দা নজরদারি
আর/


