বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জামায়াত-এনসিপি নেতারা আওয়ামী বন্দোবস্তের অপরাজনীতি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভূলণ্ঠিত করছে । রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অসংলগ্ন মিথ্যাচার, উস্কানি, ব্যক্তিগত আক্রমণ, পরিকল্পিত নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপ প্রয়াস নিশ্চয়ই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী এবং দূরভিসন্ধিমূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ।
তিনি শুক্রবার জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রস্তুতিমূলক সভায় ধোবাউড়া উপজেলা ডাকবাংলা মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক সভায় বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন। প্রিন্স বলেন, দলের দূরভীসন্ধীমূলক রাজনীতি জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার পিঠে ছুরিকাঘাত করছে। তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের উল্লেখ করে প্রিন্স এসব সংঘাতের জন্য বিরোধী দলের কতিপয় নেতার লাগামহীন উস্কানিমূলক, আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষ প্রসূত বক্তব্যকে দায়ী করে বলেন, এসব তাদের অন্তঃসারশূন্য দূরভীসন্ধীমূলক রাজনীতির পরিচয় বহন করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ , বৈষম্যহীন ,মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তারেক রহমান নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি সেই প্ল্যান বাস্তবায়নে কাজও শুরু করেছেন। দেশ ও জনগন এর সুফলও পেতে শুরু করেছে।
জামায়াত-এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন অথচ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য ও অঙ্গীকার কটাক্ষ করে অপব্যাখ্যা করছে, যা দেউলিয়াত্বের পরিচয় বহন করে। এনসিপি প্রধানের ‘ জিয়ার নামে বিএনপিকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না ‘ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসাকারীদের মুখে এসব কথা মানায় না। তারা তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকারের মেয়াদকেও সীমিত করার ঘোষণাও দিচ্ছে , যা তাদের অন্তঃসারশূন্য ও অর্বাচীনতার পরিচয় বহন করে।
প্রিন্স বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শেখ মুজিবের নামের মতো শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে বা জামায়াতে ইসলামীর মতো ইসলামের নামে বা এনসিপির মতো জুলাই চেতনার নামে রাজনৈতিক ব্যবসা বা চেতনা বেঁচে রাজনীতি করে না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, ধর্ম, সংস্কৃতি ধারণ করে। বিএনপির রাজনীতির ভিত্তি হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা, জনগণের আস্থা, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, মানুষের কল্যাণ, শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, তারেক রহমানের ৩১ দফা, জুলাই সনদ । সেই কারণেই দেশের মানুষ বিএনপিকেই তাদের সবচেয়ে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে, জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়।”নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি কর্মসূচি হতে হবে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। কোনো ধরনের উস্কানি, ব্যক্তিগত কটাক্ষ বা বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের রাজনীতি করতে হবে।তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের ত্যাগ এবং জনগণের অদম্য সাহস দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ” বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সফল গণঅভ্যুত্থানে রুপান্তরের রূপকার। জনগণ এই গণ অভ্যুত্থানের একক দাবীদার ।
তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী আক্রমনের প্রেক্ষাপটে তা মোকাবিলায় জনগণ ও রাজনৈতিক দল সমূহকে ঐক্যবদ্ধ করতে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ,সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক কৌশলের ফলেই ২০২৪ সালের কোটা বাতিলের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমান্বয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, আব্দুল কুদ্দুস, হাবিবুর রহমান হাবিব সোলায়মান সরকার, আব্দুল মোমিন শাহিন, আব্দুল ওয়াহেদ তালুকদার, মোহাম্মদ শাজাহান, মাহবুবুল আলম বাবুল, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম ডলার , উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক নয়ন মন্ডল, ছাত্রদলের আহবায়ক জালাল উদ্দিন, মহিলা দলের সভানেত্রী পুষ্প রানী, তাঁতী দলের আহ্বায়ক ওসমান গনি, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ওবায়দুল ফকির, ওলামা দলের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ, হাবিবুর রহমান, কলেজ ছাত্র দলের তানভীরুল হক নাহিয়ান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পড়ুন : ফিরে দেখা জুলাই ৩২: জামায়াত নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন, বিক্ষোভে উত্তাল দেশ
সা/


