বিজ্ঞাপন

ফিরে দেখা জুলাই ৩২: জামায়াত নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন, বিক্ষোভে উত্তাল দেশ

শিক্ষার্থীদের ঘোষণা ছিল, রক্তিম এ জুলাইয়েই হাসিনার পতন নিশ্চিত করবে তারা। যে কারণে ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে নতুনভাবে তারিখ গণনা শুরু করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নতুন মোড় নেয়। সেদিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। একই সময়ে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার, দমন-পীড়নের অবসান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ২৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে সংকট নিরসন, জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং উত্তেজনা প্রশমনে একটি স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধানী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কারীকে দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমাদের বীরদের স্মরণে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, নীরব মিছিল ও সমাবেশ করেন। অন্তত পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় নিহতদের বিচার এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটক ঠেকাতে শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করেন। তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করে। ঢাকায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি, ক্যাম্পাস থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যাহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরকার-সমর্থিত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী হত্যার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের ‘অন্যায় ও বেআইনি’ নির্দেশ না মানার আহ্বান জানান এবং বলেন, দমন-পীড়ন যত বাড়বে, জনতার প্রতিরোধও তত জোরালো হবে।

এদিন নিহত হন আরও একজন। নারায়ণগঞ্জের ৩১ বছর বয়সী কারখানাশ্রমিক সেলিম তালুকদার ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ১৮ জুলাই কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে তিনি বুকে ৫৬টি এবং মাথায় ১৮টি ছররার আঘাত পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিশ্চিত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ২০১ জনে।

ক্রমবর্ধমান জনক্ষোভের মধ্যে বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি দল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব আটক ব্যক্তির মুক্তির দাবি জানায়। মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে ‘সংক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছয় সমন্বয়কারী মুক্তি পেলেও এখনও বহু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আটক রয়েছেন।

সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী আবদুল কাদের পরদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় প্রার্থনার পাশাপাশি জুমার নামাজের পর গণমিছিলের কর্মসূচি ছিল। তিনি শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্দোলনের নয় দফা দাবির প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।

পড়ুন : ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে সতর্কবার্তা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন