বিজ্ঞাপন

শিবচরে সরকারি টলঘর পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সরকারি টলঘর দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ব্যবহার থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ভান্ডারীকান্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সরকারি সম্পত্তি জনগণের জন্য পুনরুদ্ধার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, জনগণের সুবিধার্থে নির্মিত সরকারি টলঘর বছরের পর বছর ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরকারি এ স্থাপনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা সরকারি সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালের একটি ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি তাদের হাতে এসেছে। ওই চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ৪৩৫ মিটার সেতু নির্মাণকাজের মালামাল সংরক্ষণের জন্য দক্ষিণ ক্রোকচর বাজার মাঠ, মসজিদ মাঠ ও টলঘর বাজারের ইজারাদার শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে জায়গা ভাড়া নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হা-মিম ইন্টারন্যাশনাল।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ভাড়াটি শুধুমাত্র সেতু নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও সরকারি টলঘর কেন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি? বর্তমানে এটি কার নিয়ন্ত্রণে এবং কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

প্রতিবাদ সভায় মোতালেব হাওলাদার, আব্দুল করিম হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, আবু সাইদ মোল্লা, মো. দেলোয়ার হাওলাদার ও রকমান বেপারী অভিযোগ করে বলেন, অতীতেও সরকারি টলঘর জনগণের জন্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ও তাদের সহযোগীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন।

ভান্ডারীকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাইয়ুম সরদার বলেন, “সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। অথচ বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ এই টলঘর ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে সরকারি সম্পত্তি জনগণের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।”

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, “সরকারি বাজারের টলঘরসহ মসজিদের জমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। টলঘর ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সম্মতি ও তৎকালীন চুক্তির ভিত্তিতেই হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসন তদন্ত করুক। আমরা তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হা-মিম ইন্টারন্যাশনাল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেতু নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন বৈধ চুক্তির ভিত্তিতেই নির্ধারিত সময়ের জন্য জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর টলঘরের মালিকানা, দখল বা পরবর্তী ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। বর্তমানে টলঘর কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে মিজান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিল,মোতালেব হাওলাদার,আঃ করিম হাওলাদার,মোস্তফা হাওলাদার,আবু সাইদ মোল্লা, মোঃ দেলোমার হাওলাদার, রকমান বেপারী, সুলতান কাজী, আক্তার হোসেন সরদার, মোঃ লুৎফর সর্বদার, আবু ছালাম সরদার, মোতালেব হাওলাদার, আঃ করিম হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, দেলোয়ার হাওলাদার, রফমান, অলতানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মনোহরদীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন