বিজ্ঞাপন

বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই : দুদক

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। এ সংক্রান্ত কাজে দুদকের গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি দুদক পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যা যা করার প্রয়োজন, দুদক তা করবে।

এর আগে, একইদিন দুদকের সচিব হিসেবে যোগ দেন মো. সাইদুর রহমান খান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।

এদিকে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন বেনজীর।

গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এ বিষয়ে গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়।

ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ‍দুদক।

মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদী দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের প্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেপ্তার পরওয়ানা জারি করে। এরই ধারাবহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানকালে বেনজীরকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ তার ঘোষণা করা সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের কাছে প্রমাণিত হওয়া ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। ওই মামলার বিষয়ে গ্রেপ্তার পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে। বেনজীর ছাড়া ওই মামলার বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশন এর ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায়ও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্যান্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) এর জন্য আবেদন করেছেন। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আসামিরা বেনজীর আহমেদ এর দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও অন্যান্য আসামিরা বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রাজধানীর নৌপথ সচল ও দূষণ রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন