উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে রাশিয়ায় নিহত শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের (২৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার বাদ জোহর সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা সওড়াতলা মসজিদ সংলগ্ন মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নিহত অনিক সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। গত দেড় মাস আগে ক্যাম্প্যাসের ৫তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি।
এরআগে দুপুর ১২টার দিকে অনিকের লাশ সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, মুফতি আলী হোসাইন ফারুকী সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা বলেন, প্রবাসে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই মারা যাচ্ছে। তাদের লাশ দেশে আনতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সরকারী তহবিলে কোন ফান্ড না থাকায় ব্যক্তিগতভাবে খরচ করে সেই লাশ দেশে আনতে হচ্ছে। একটি লাশ আনতে প্রায় ২০/২৫ লাখ টাকা পড়ে যাচ্ছে। আজকে যে ব্যক্তির জানাযা করা হচ্ছে, এই কফিন আনতে ২৫ লাখ টাকা চেয়েছিলো। রাশিয়ার দূতাবাস ও সরকারের সহযোগিতায় পরে তা ৮লাখ টাকায় আনা হয়েছে। গরীব মানুষ তারা এতো টাকা পাবে কোথায়। এটি মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। প্রবাসীদের লাশ দেশে আনতে সরকার কোন বাজেট না দেওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারকী সাংবাদিকদের জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। ছেলেটির মা নেই। বাবা ও বড় ভাই আছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। চলতি বছরের ২১ জুন খবর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে অনিকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কীভাবে পড়লো সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭) রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির ( ঝড়ঁঃয টৎধষ ঝঃধঃব টহরাবৎংরঃু, ঈযবষুধনরহংশ, জঁংংরধ) শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২০ জুন নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্প্যাসের ৫তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যান অনিক। তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। একমাস ১২ দিন পর অনিকের মরদেহ রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
পড়ুন : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নারীর মৃত্যু


