‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর ২য় বার্ষিকী পালনের অংশ হিসেবে ইবিতে শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে তাঁর মাকে লেখা শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ এবং নানা সাইদুর রহমান খানের উপস্থিতিতে ফলক উন্মোচনকালে উপাচার্য বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মধ্য দিয়ে এই হলের শিক্ষার্থীরা চিঠিটি পড়ে জানতে পারবে, আনাস দেশপ্রেমিক একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের যে চিহ্ন আমরা চিঠিতে দেখলাম, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের জান্নাতবাসী করুন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। নতুন আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ও সমাজ বিনির্মাণে এই চিঠির প্রতিবদ্ধ বিষয়গুলো ধারণ করে আমরা সবাই যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারি—তাহলেই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের আত্মত্যাগ সফল হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে।
এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ ইদ্রিস আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতিবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ১১৬ নং কক্ষে ইবি কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ ইদ্রিস আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ক-বিভাগ (প্লে হতে চতুর্থ শ্রেণি)-এর বিষয় ছিল— ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’। খ-বিভাগ (পঞ্চম হতে সপ্তম শ্রেণি)-এর বিষয় ছিল— ‘পানি লাগবে পানি, পানি…’। গ-বিভাগ (অষ্টম হতে দশম শ্রেণি)-এর বিষয় ছিল— ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’।


